সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৬শে সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে ‘এক্সপ্লোর-২’ জাহাজে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার সুন্দরবনের জলজ পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের মাধ্যমে সুন্দরবনের ভেতরে যাতে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়েও ট্যুর অপারেটরদের সতর্ক থাকতে হবে। পর্যটন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রেখেই পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতজন পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। ধারণক্ষমতার বেশি পর্যটকের চাপ যাতে বনের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সুন্দরবনে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, প্লাস্টিকের প্লেট ও গ্লাসের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পর্যটকবাহী নৌযানে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি চালিত ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় পর্যটন পরিচালনার আহ্বান জানান।
সুন্দরবনে পর্যটকদের অবস্থানের সময় নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, একই এলাকায় দীর্ঘ সময় পর্যটকদের অবস্থান না করিয়ে পর্যটন কার্যক্রমের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে নির্দিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকার সময় খুলনা ও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে পর্যটন পরিকল্পনায় যুক্ত করার পরামর্শও দেন তিনি। এতে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমার পাশাপাশি স্থানীয় অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের বিকাশ ঘটতে পারে।
মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের নেতারা সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান পপুলসহ নেতারা বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকায় ট্যুর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, পর্যটকবাহী নৌযানের মালিক, পর্যটন পথপ্রদর্শক, মাঝি এবং এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের আয় ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তাঁরা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের নেতারা, সংগঠনের সদস্য, সুধীজন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।