শরৎ ও নজরুল উৎসবে শিশুদের হাতে গাছের চারা

শিশুদের সামনে নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা

শরতের প্রকৃতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে ঘিরে রাজধানীর মাদারটেক শান্তিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শরৎঋতু ও নজরুল উৎসব’। বুধবার (৭ই  অক্টোবর) দি নিউ অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কিন্ডারগার্টেন প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।

বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শত শত শিশু-কিশোর অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে বরেণ্য ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় সমাজসেবক, শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া। সবুজ আন্দোলনের পথিকৃৎ সংস্থা বৃক্ষালয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ১০০টি বোট লিলি গাছের চারা শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। প্রতিটি শিশুর হাতে একটি করে চারা তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরির বার্তা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, বাংলার ঋতুবরণ পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় শরৎঋতু ও নজরুল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের মতে, শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি করতে হলে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিশুদের সামনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক মারুফ আহমেদ নজরুলের আদুরে নাম ‘দুখু মিয়া’কে কেন্দ্র করে কবির জীবনের নানা ঘটনা শিশুদের শোনান। ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে তিনি নজরুলের জীবন ও আদর্শ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও যাদুশিল্পী জি. এম. কামরুল হুদা লাবলু শিশুদের জন্য যাদু প্রদর্শন করেন। তাঁর পরিবেশনা শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও আনন্দ দেয়।

অনুষ্ঠানে শিশুরা নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথাও তুলে ধরে। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ বৈমানিক, কেউ আইনজীবী হতে চায়। আবার কেউ কেউ তাঁদের প্রিয় শিক্ষকদের মতো শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের কথা জানায়। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মতো দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারও করে তারা।

প্রধান অতিথি জি. এম. কামরুল হুদা লাবলু বলেন, শিশুদের স্বপ্ন কাশফুলের মতো ছড়িয়ে পড়ুক। তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ছাদেকুর রহমান কিরণ এমন আয়োজনের জন্য বাংলার ঋতুবরণ পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. এমদাদ হোসেন বলেন, শিশুদের সঙ্গে বসে নজরুলের গল্প, ছড়া, গান ও কবিতা উপভোগ করে তিনিও যেন কিছু সময়ের জন্য শিশু হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আজকের শিশুরাই একদিন দেশের নেতৃত্ব দেবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘শিশুরাই আগামী, ওরাই আগামীর বাংলাদেশ।’ ভালো কাজ করার জন্য তিনি শিশুদের উৎসাহ দেন। নজরুলের মতো বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি জুয়েল দেওয়ান, দেলোয়ার হোসেন পাপ্পু, জাহিদুর রহমান মাসুদ, এস. কে. বেলায়েত হোসেন কাদেরী বিদ্যুৎ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলার ঋতুবরণ পরিষদের সমন্বয় কর্মকর্তা ও নাট্যাভিনেতা মো. জসিম উদ্দিন।

গাছের চারা ও বিভিন্ন উপহার হাতে নিয়ে হাসিমুখে শিশুদের বাড়ি ফেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘শরৎঋতু ও নজরুল উৎসব’। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও নজরুলের মানবিক আদর্শের সঙ্গে শিশুদের এই পরিচয় তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

আরো পড়ুন : রঙে-রেখায় নিজেদের জগৎ তুলে ধরল অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *