মানিকগঞ্জে ৫ গ্রামের রাস্তা মেরামত করলেন প্রবাসী শেখ পলাশ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রবাসী শেখ পলাশের অর্থায়নে সংস্কার করা গ্রামের রাস্তা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো মেরামতে এগিয়ে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী শেখ পলাশ। নিজের অর্থায়নে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের পাঁচ গ্রামের চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাগুলো মেরামত করেছেন।

জামশা ইউনিয়নের দক্ষিণ সারারিয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ পলাশ। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দেখে তিনি নিজ উদ্যোগে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন। কয়েকটি গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা ইট, খোয়া ও বালু দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব রাস্তার বেশির ভাগই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছিল। বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় পরিণত হতো। তখন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাড়ত মানুষের দুর্ভোগ।

সংস্কার করা রাস্তার মধ্যে জামশা বাজার থেকে দক্ষিণ সারারিয়া, নলবিল, মাটিকাটা, পারুল্লা ও দাঁড়িপাড়া এলাকার সড়ক রয়েছে। নিচু অংশগুলো মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে উঁচু করা হয়েছে। রাস্তার ভাঙন ঠেকাতে কয়েকটি স্থানে দুই পাশে খুঁটি ও দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

শেখ পলাশ শুধু নিজের ইউনিয়নেই কাজ করেননি। পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি ভাঙা রাস্তাও নিজের অর্থায়নে মেরামত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা সংস্কারের আগে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হতো। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলেও দুর্ভোগ পোহাতে হতো। হাট-বাজারে যাওয়ার জন্য অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হতো। রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে চাইত না। এখন এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে।

জামশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুলহাস মিয়া বলেন, শেখ পলাশের উদ্যোগে প্রায় ২০ বছর ধরে অবহেলিত থাকা কয়েকটি রাস্তা নতুন রূপ পেয়েছে। তাঁর উদ্যোগে আরও কয়েকটি স্থানে রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে।

শেখ পলাশ বলেন, মানুষের সেবা করাই তাঁর উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাঁকে সামর্থ্য দিয়েছেন। সেই সামর্থ্য দিয়ে যতদিন সম্ভব মানুষের পাশে থাকতে চান তিনি। মানুষের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করেন এই প্রবাসী।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ ধরনের রাস্তা সংস্কার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকা রাখছে। তবে এসব সড়কের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত সংস্কারও প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *