সারাওয়াকের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের উদ্যোগ

কুচিংয়ে সারাওয়াকের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সারাওয়াকের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধিদল।

৩রা অক্টোবর কুচিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মাত শাহানারা মনিকা।

সারাওয়াক উৎপাদনকারীদের সংগঠনের সভাপতি পিটার চাই মুই সেং, মহাসচিব স্টিফেন অ্যাংসহ সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরেন ডেপুটি হাইকমিশনার।

তিনি সারাওয়াকের ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে তৈরি পোশাক, খাদ্য ও পানীয়, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য এবং হালাল পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের আসন্ন বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলায় সারাওয়াকের ব্যবসায়ীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান শাহানারা মনিকা। পাশাপাশি সারাওয়াকের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

পরে সারাওয়াক ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনগো লেসলি চংসহ ওষুধশিল্পের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডেপুটি হাইকমিশনার। এতে বাংলাদেশের ওষুধপণ্য, রপ্তানি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের সম্ভাব্য বাজার সম্প্রসারণ এবং সারাওয়াকের সঙ্গে ওষুধশিল্পে বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আসা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা নিয়েও মতবিনিময় করেন ডেপুটি হাইকমিশনার।

বৈঠকগুলোতে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের জন্য সারাওয়াকের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাওয়াক মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। সেখানে উৎপাদন, কৃষি, খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *