জাপানে শুরু হচ্ছে পঞ্চম এশীয় প্যারা গেমসের মশালযাত্রা

এশীয় প্যারা গেমস ২০২৬-এর মশাল—কমলা রঙের অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি, জাপানি সংস্কৃতির নকশায় নির্মিত।

জাপানের আইচি প্রিফেকচার ও নাগোয়া শহরে আগামী ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম এশীয় প্যারা গেমস। এ আয়োজনকে সামনে রেখে মশালযাত্রার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আশা, আকাঙ্ক্ষা, সংহতি ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গেমসের শিখা মশালবাহকদের হাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছাবে। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেই শিখা মূল ক্রীড়াঙ্গনের শিখাধারে প্রজ্বালিত হবে। মশালযাত্রাকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, গেমসের ভাবনা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মশালটির নকশায় জাপানি সংস্কৃতি এবং আইচি-নাগোয়া অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া আয়োজনের আকাঙ্ক্ষাও নকশার ভাবনায় রাখা হয়েছে। মশালটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে মশালবাহীরা পুরো যাত্রাপথে সহজে ও নিরাপদে এটি বহন করতে পারেন।

মশালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ মিলিমিটার। ওজন প্রায় ১ হাজার ৩০০ গ্রাম। এটি অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি এবং এর প্রধান রং কমলা। বহনের সুবিধার পাশাপাশি ওজনের ভারসাম্যও নকশায় বিবেচনা করা হয়েছে।

এই মশালযাত্রার মূলমন্ত্র হলো—‘সবার জন্য এক শিখা’। আয়োজকদের ভাবনায় এই শিখা বিভিন্ন মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে একত্রিত করবে। একই সঙ্গে সংহতি এবং সবার জন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠবে।

আয়োজকদের পরিকল্পনায় মশালযাত্রার মধ্য দিয়ে জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে গেমসের সংযোগ তৈরি করা হবে। মশালবাহীদের মাধ্যমে শিখাটি একে অন্যের হাতে পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়ায় গেমসের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।

তবে গেমসের সময়সূচি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আয়োজক ও এশীয় প্যারা ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম এশীয় প্যারা গেমসের আনুষ্ঠানিক সময়কাল ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬। গেমসে ১৮টি খেলায় ৪৫টি এশীয় দেশ ও অঞ্চলের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রীড়াবিদ ও দলীয় কর্মকর্তাসহ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার হতে পারে।

নাগোয়া শহরের মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম হবে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান ভেন্যু। জাপানের জন্য এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যের । দেশটিতে প্রথমবারের মতো এশীয় প্যারা গেমস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গেমসের ১৮টি খেলার মধ্যে প্যারা তিরন্দাজি, প্যারা অ্যাথলেটিকস, প্যারা ব্যাডমিন্টন, দৃষ্টিহীন ফুটবল, বোচিয়া, প্যারা সাইক্লিং, গোলবল, প্যারা জুডো, প্যারা ভারোত্তোলন, প্যারা শুটিং, প্যারা সাঁতার, প্যারা টেবিল টেনিস, প্যারা তায়কোয়ান্দো, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, হুইলচেয়ার ফেন্সিং, হুইলচেয়ার রাগবি, হুইলচেয়ার টেনিস এবং বসা ভলিবল রয়েছে।

এশীয় প্যারা গেমসের এবারের আসরকে ঘিরে মশালের এই যাত্রা তাই কেবল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নয়। আয়োজকদের পরিকল্পনায় এটি বিভিন্ন মানুষকে একই প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রতীকী যাত্রা। একটি শিখা একের পর এক মশালবাহীর হাতে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাবে গেমসের মূল মঞ্চে। সেখানে সেই শিখা প্রতিযোগিতা, অংশগ্রহণ এবং সমতার প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *