তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বস্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরেছেন উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে বস্ত্র ও পোশাক খাতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোও তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার (২৩শে সেপ্টেম্বর) দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। সম্মেলনের মূল আলোচনায় ছিল বস্ত্রশিল্পের উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ।
বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে শিল্পটির সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও এর ব্যাপকতা স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি এবং ওভেন পোশাক থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০৮ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে। দেশে দুই শতাধিক পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা রয়েছে। উচ্চমূল্যের পোশাক, প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ বাড়ছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে বস্ত্র খাতে সহযোগিতার সুযোগের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে তুলা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সুতা ও কাপড় উৎপাদন, পোশাক তৈরি, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
তাজিকিস্তান বর্তমানে নিজেদের বস্ত্রশিল্পকে আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির বস্ত্রশিল্পে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ এ খাতে কর্মরত। দেশটির উৎপাদিত তুলার বড় অংশ এখনো কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি হয়। সরকার তুলা থেকে তৈরি পোশাক পর্যন্ত সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
সম্মেলনের আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং ২৫০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তাজিকিস্তান বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি সাশ্রয়ী উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সংযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য মধ্য এশিয়ার বাজারে বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এ ধরনের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে তাজিকিস্তানের তুলা ও বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি অভিজ্ঞতার মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনে বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাজিকিস্তানের সঙ্গে এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।