ঢাকায় এক গণসমাবেশ থেকে অবিলম্বে ‘জাতীয় ঐকমত্যের সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম। তাঁর বক্তব্য, অতীতে সংবিধানে যেভাবে সংশোধন আনা হয়েছে, একই পদ্ধতিতে এবার জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ বা তা টেকসই করা সম্ভব নয়।
সংসদের ছয় মাস পার হলেও সরকার সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী আইন প্রণয়ন এবং সংস্কার পরিষদ গঠন না করার প্রতিবাদে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কারের বদলে আবারও পুরোনো ‘সংশোধনী’র পথেই এগোচ্ছে। তিনি র্যাবের কাঠামো, গুমসংক্রান্ত আইন এবং দেশের জননিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিলম্ব না করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনও সংবিধান সংশোধনীর পরিবর্তে কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, একটি সংশোধনী কমিশন গঠন করে সংবিধানের কিছু অংশ পরিবর্তন করলেই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সংকট দূর হবে না। জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নজরুল হক বলেন, বেকারত্ব বাড়লেও অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব নিয়ে সমাবেশ করতে চেয়েছিল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন। তবে সরকার ‘ঠুনকো কারণ’ দেখিয়ে সেই কর্মসূচি বাতিল করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, এ ঘটনা অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারে সরকার ও বিরোধী জোটের আগ্রহ নেই। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশীজনকে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সাবেক কূটনীতিবিদ সাকিব আলী, শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী এহসানসহ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম সমাবেশ পরিচালনা করেন।