ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান এখন আর উপেক্ষা করার মতো কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত, বিপুল মানুষের জীবিকা এবং নগরের বিদ্যমান গণপরিবহনের ঘাটতির সঙ্গে এসব যান সরাসরি যুক্ত। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়ক নিরাপত্তা, চার্জিং ব্যবস্থা, যানবাহনের মান এবং যাত্রীসেবার মতো নানা প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই বাস্তবতায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানকে হঠাৎ বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবহন পরিকল্পনাবিদ, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামটরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সম্মেলনকক্ষে ‘ব্যাটারি চালিত তিন চাকার যান এবং টেকসই গণপরিবহন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান ও পরিকল্পনাবিদ তাহসিন রেজা।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানকে প্রচলিত রিকশার সঙ্গে এক করে দেখলে এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ও পরিবহনগত প্রভাব বোঝা যাবে না। গতি, চলাচলের ধরন ও সড়ক ব্যবহারের বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব যানকে পৃথক মোটরচালিত যান হিসেবে বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
গবেষণায় এসব যানের চালকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, আয়, পূর্ববর্তী পেশা এবং বিকল্প জীবিকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীরা কেন এসব যান ব্যবহার করেন, বিশেষ করে নারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপনায় বলা হয়, প্রচলিত রিকশার তুলনায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানের গতি ও যানবাহনের মধ্যবর্তী দূরত্বে পার্থক্য রয়েছে। গবেষণায় এসব যানের ক্ষেত্রে প্রায় ১ দশমিক ৩ সেকেন্ড যানবাহনের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাওয়া গেছে। প্রচলিত ২ সেকেন্ডের তুলনায় এই দূরত্ব কম হওয়ায় আকস্মিক পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে এসব যান দ্রুত ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সেবা দিচ্ছে বলেও গবেষণায় উঠে আসে।
সেমিনারে নগর পরিবহনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে শক্তিশালী গণপরিবহনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এর অর্থ রিকশা বা ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান হঠাৎ বাদ দেওয়া নয়। বরং কোন সড়কে, কোন এলাকায় এবং কী ধরনের যাতায়াতে এসব যান চলবে, তা নির্ধারণ করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আলোচনায় বক্তারা জানান, নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থা দুর্বল হলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণপরিবহনের অংশীদারিত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি রিকশা ও মোটরচালিত তিন চাকার যানের ব্যবহার বেড়েছে বলে সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও মানসম্মত বাসসেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাঁটা, সাইকেল এবং গণপরিবহনকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনাও প্রয়োজন।
অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. এস. এম. সোহেল মাহমুদ বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে প্রথমে একটি সুস্পষ্ট নীতি ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা তৈরি করা প্রয়োজন। এসব যানবাহনের নেতিবাচক প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণাও দরকার।
তিনি বলেন, মালিক, চালক, মেরামতকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার একটি অংশ এসব যানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ নীতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ আমদানি, সংশ্লিষ্ট কারখানা ও চার্জিং কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিকল্প পরিবহন এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান এখন ঢাকার প্রায় পুরো নগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এ বিস্তার নগর পরিবহনের কাঙ্ক্ষিত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, মানুষের পরিবহন পছন্দ পরিবর্তনে একদিকে ব্যক্তিগত যান ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার ব্যবস্থা এবং অন্যদিকে উন্নত গণপরিবহনের সুযোগ—দুই ধরনের উদ্যোগ একসঙ্গে নিতে হবে।
মানসম্মত বাসসেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ উন্নত বিকল্প পরিবহনের দিকে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, কার্যকর গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য সমানভাবে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তিনি নির্দিষ্ট স্থান ও এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান পরিচালনার পাশাপাশি লাগুনা, মিনিবাস ও টেম্পোর মতো অন্যান্য সহায়ক গণপরিবহনের জন্যও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, শুধু চালককে নিয়ন্ত্রণ করলে হবে না। যান সরবরাহকারী, মালিক, চার্জিং কেন্দ্রের মালিক ও আমদানিকারকদেরও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, উৎপাদন, সরবরাহ ও চার্জিং নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ঢাকার সড়কে পর্যাপ্ত বাস দাঁড়ানোর স্থান ও গাড়ি রাখার জায়গার অভাব এবং অপরিকল্পিত চৌরাস্তার কারণে যানজট ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।
তাঁর মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সমস্যাটির সমাধান করতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকার মহাপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণপরিবহনের অংশীদারিত্ব বাড়ানো। তিনি জানান, সরকার বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নারী যাত্রীবান্ধব ও বৈদ্যুতিক বাস চালু এবং মেট্রোরেলকেন্দ্রিক সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া বাস্তবসম্মত ও সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা দরকার। কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও যাতায়াতের সঙ্গে এসব যান যুক্ত। তিনি প্রথম ও শেষ পর্যায়ের যাতায়াতের সংযোগে এসব যান ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনার কথা বলেন। পাশাপাশি যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, নীতি প্রণয়নে সাধারণজ্ঞ ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ—উভয়ের যথাযথ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। পরামর্শদাতার যোগ্যতার পাশাপাশি স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।তিনি জানান, ঢাকায় প্রায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালু এবং বাস ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন হচ্ছে।
মেট্রোরেল পরিচালনায় সরকারি ভর্তুকির তুলনায় বাস পরিবহনে ভর্তুকি খুবই কম উল্লেখ করে তিনি বাস পরিবহনেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিকল্পনাবিদ মীর আহমেদ তারিকুল ওমর বলেন, কোনো পরিবহন ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ না করে আগে কার্যকর বিকল্প তৈরি করতে হবে। তিনি সাশ্রয়ী ও মানসম্মত গণপরিবহন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় কার্যকর বাসসেবা চালু, বাসের মান ও উপযোগিতা উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বড় বাসের পরিবর্তে ছোট বাস চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পরিকল্পনাবিদ ড. আখতার মাহমুদ বলেন, হাঁটার উপযোগী শহর একটি উন্নত নগরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিরাপদ ফুটপাত তুলনামূলক কম ব্যয়ে শহরকে আরও প্রাণবন্ত করতে পারে। তিনি গণপরিবহনের ব্যবহার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বাস ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা জানান।
তাঁর মতে, একটি কার্যকর বাসব্যবস্থা বর্তমান পরিবহন সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য জনবান্ধব পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন। যানজট নিরসনে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে উৎসাহ দিতে শুল্ক কমানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধা, গবেষণা এবং ব্যাংকঋণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আন্তঃজেলা বাস ঢাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, বাস টার্মিনালগুলোকে নগর বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন বাস ব্যবস্থাপনা, রেলক্রসিং, ঢাকার আশপাশে উড়ালসড়ক ও ভূগর্ভস্থ পথ, যাত্রীবাহী ট্রেন, নৌপথ, মেট্রোরেল ও মনোরেল নিয়েও কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব যান হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। ব্যাটারিচালিত যান চলাচলের নির্দিষ্ট পথ, কর প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সেমিনারের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানকে শুধু সড়কের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগরের গণপরিবহন, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত, মানুষের জীবিকা, সড়ক নিরাপত্তা এবং নগর পরিকল্পনা।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে তাই একদিকে এসব যানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। অন্যদিকে একই সঙ্গে উন্নত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, পরিকল্পনাবিদরা মূলত পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা দেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন নীতিনির্ধারকেরা। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও যথাযথ পরিকল্পনা থাকলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে ছোট প্রকল্পের মাধ্যমেও কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব। মানুষের সেবা করাই পরিকল্পনাবিদ পেশার মূল উদ্দেশ্য।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তাদের বক্তব্যের সারকথা হলো, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান নিয়ে নীতিনির্ধারণে নিষেধাজ্ঞা বা অবাধ চলাচল—কোনো একক অবস্থানই যথেষ্ট নয়। নগরের প্রয়োজন, মানুষের যাতায়াত, জীবিকা, সড়ক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন পরিকল্পনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।