নতুন বাংলাদেশ গড়তে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, দক্ষ, সৃজনশীল, চিন্তাশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানী। জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
বুধবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি সনদ অর্জনের জায়গা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শেখায়। নানা উপায়ে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করে। একই সঙ্গে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্ব সম্পর্কেও জানার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়। প্রয়োজন এমন মানুষ তৈরি করা, যারা মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি মানবিকও হবে। নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের কথাও ভাববে। দুর্বল মানুষ কিংবা সমাজের কোনো সমস্যা দেখলে তা এড়িয়ে যাবে না।
জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮০০ ডলার থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেখানেই যাবে, দেশের জন্য কিছু করতে হবে। মানুষ হিসেবে বড় হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা রাষ্ট্রের সম্পদ। জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের গড়ে তুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখাই তাদের প্রতি জাতির প্রত্যাশা।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সমাজ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়। সমাজের সমস্যা সমাধানের পথও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখাতে হবে। এজন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে।
কৃষি, পরিবেশ, পানি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এমন গবেষণা প্রয়োজন যার ফল শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেই গবেষণার সুফল মানুষের বাস্তব জীবনে পৌঁছাতে হবে। রাষ্ট্রের অগ্রগতিতেও তা ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়। ২০০৬ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। একই বছরের ২২ জুন থেকে সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়।