জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি। তিনি অন্যায়, শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতাকামী কবিদের আত্মিক মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
মঙ্গলবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অবসর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নজরুল ছিলেন প্রেমের কবি, সাম্যের কবি ও মানবতার কবি। অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন চিরন্তন প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও দর্শনে মানুষের মুক্তি, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। এটি নজরুলের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে ২০২৬ সালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, নজরুল বর্ষ পালনের মধ্য দিয়ে শুধু একজন কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে না। তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নজরুলের সাহিত্য বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, তাঁর কর্ম ও সাহিত্যে বিপ্লবের ছাপ বেশি। কারণ নজরুল ছিলেন খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় প্রেম, আক্ষেপ ও আকুতির প্রকাশ বেশি দেখা যায়।
তিনি বলেন, নজরুলের লেখায় অন্যায়, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী উচ্চারণ রয়েছে। ‘ভাঙার গান’-এর ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’ কবিতার পঙ্ক্তি এর অন্যতম উদাহরণ।
বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সেই আন্দোলনে নজরুলের দ্রোহের চেতনারও প্রতিফলন দেখা গেছে। সে সময় বিভিন্ন দেয়ালে নজরুলের কবিতা লেখা ও প্রদর্শিত হয়েছে।
তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের বিপ্লবী চেতনা আরও সক্রিয়। তাই নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হলে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা ও মানসিকতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা রাষ্ট্র ও জনগণের সেবা করেছেন। জীবনের কর্মক্ষম সময় দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। অবসর নেওয়ার পরও তাঁরা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাননি।
তিনি বলেন, তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রাষ্ট্র ও সমাজ এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে অবসরপ্রাপ্তদের মর্যাদা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশও তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে তিনি বলেন, নজরুল ছিলেন সাধারণ মানুষের কবি। তিনি সাধারণ মানুষের কথা বলতেন।
সভায় বক্তারা নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। বাঙালির জাতীয় জীবনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তাঁরা।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।