এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। সোমবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) জাপানের ওসাকার মাঠে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে উত্তর কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে এশিয়ার শক্তিশালী দলটি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সাত গোল করে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে উত্তর কোরিয়া। আরও তিন গোল করে শেষ পর্যন্ত ১০-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে তারা।
ম্যাচজুড়ে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বল দখল, আক্রমণের ধারাবাহিকতা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে দুই দলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। প্রথমার্ধে সাত গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি।
উত্তর কোরিয়ার সমর্থকরাও ম্যাচে দলের জন্য জোরালো সমর্থন দেন। কয়েক শ জন লাল পোশাকের সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে স্লোগান ও গান গেয়ে দলকে উৎসাহ দেন।
উত্তর কোরিয়ার শুরুর একাদশে ছিলেন স্ট্রাইকার রি সোং-আ। জাপানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল করেন।
বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান গেমসের শুরুটা তাই হলো বড় ব্যবধানের পরাজয় দিয়ে। বিশেষ করে এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাটতি এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে এই ফলকে শুধু একটি ম্যাচের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগও কম। এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরি, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো, ফিটনেস ও কৌশলগত প্রস্তুতি উন্নত করা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১০ গোলের ব্যবধানে হার বাংলাদেশের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক মানের একটি কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরেছে। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে এখন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই।