ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে যক্ষ্মা শনাক্তে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ। এ উদ্যোগে জাপান সরকার অনুদান দিচ্ছে। ৬ই অক্টোবর ঢাকায় জাপান দূতাবাসে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে।
চুক্তিতে জাপানের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও পুষ্টি গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. থ্যাডিয়াস ডেভিড মে সই করেন।
এই প্রকল্পের আওতায় একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ও একটি ফুজিফিল্মের বহনযোগ্য ডিজিটাল এক্স-রে যন্ত্র সংগ্রহ করা হবে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঢাকার নির্বাচিত বস্তি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ যক্ষ্মা শনাক্তকরণ সেবা দেওয়া হবে।
সেবাটিতে বুকের বহনযোগ্য এক্স-রে করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এক্স-রে ছবিতে যক্ষ্মার সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করা হবে। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নিশ্চিত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্রে পাঠানো হবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে বছরে প্রায় ৯ হাজার মানুষের যক্ষ্মা পরীক্ষা করার লক্ষ্য রয়েছে। আগের কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বছরে প্রায় ১৫০ জনের সক্রিয় যক্ষ্মা শনাক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষাকে জাপান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। যেসব মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে নানা বাধার মুখে পড়েন, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্প সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ডা. থ্যাডিয়াস ডেভিড মে জাপান সরকারের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় থাকা মানুষের কাছে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ডা. মে-এর কাছে ল্যান্ড ক্রুজারভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ রোগ নির্ণয়কারী গাড়ির একটি নমুনা হস্তান্তর করেন।
টয়োটা তসুশো করপোরেশন ও ফুজিফিল্ম প্রকল্পের যান ও রোগ নির্ণয়কারী সরঞ্জাম ব্যবহারে কারিগরি প্রশিক্ষণও দেবে। ইচিরো কাশিতানি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সুযোগ থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পৌঁছাতে এই ভ্রাম্যমাণ ইউনিট ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে যক্ষ্মা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা এবং রোগের বিস্তার কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জনগোষ্ঠীভিত্তিক যক্ষ্মা শনাক্ত, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির যক্ষ্মা কর্মসূচির আওতায় ২৫ লাখ ২০ হাজার মানুষের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন ১৭ লাখ ২০ হাজার এবং শিশু ৮ লাখ।
এ সময়ে মোট ৭ হাজার ৭০ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৫ হাজার ৯২২ জন এবং শিশু ১ হাজার ১৪৮ জন।
নতুন উদ্যোগটি এসব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে যক্ষ্মা দ্রুত শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে যক্ষ্মা নির্মূলের চলমান প্রচেষ্টায়ও অবদান রাখার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের সংক্রামক রোগ বিভাগের উদীয়মান সংক্রমণবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. সায়েরী বানুসহ প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এবং টয়োটা ও ফুজিফিল্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।