মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনী ও সম্মেলন। ২রা অক্টোবর শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত। কুয়ালালামপুর সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত মেলায় বাংলাদেশও অংশ নিয়েছে।
মেলায় বাংলাদেশের দুটি প্রদর্শনীকেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর এবং বাংলাদেশি পর্যটন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এম৩৬০ আইসিটি যৌথভাবে এসব প্রদর্শনীকেন্দ্রে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। পর্যটন খাতের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবার বিষয়েও দর্শনার্থীদের জানানো হচ্ছে। বিদেশি দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সহপাঠীদের নিয়ে বাংলাদেশের প্রদর্শনীকেন্দ্র পরিদর্শন করছেন।
মেলার প্রথম দিন ২রা অক্টোবর বিকেলে বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উন্মুক্ত মঞ্চে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ওপর বিভিন্ন ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি সংস্কৃতিকর্মীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সংস্কৃতিকর্মীদের একটি দল এ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। মিজ শামিমার নেতৃত্বে আয়োজিত পরিবেশনায় বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরিবেশনাটি দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।
মেলার প্রথম দিন বাংলাদেশ হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বাংলাদেশের প্রদর্শনীকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি মেলার অন্যান্য প্রদর্শনীকেন্দ্রও ঘুরে দেখেন। এ সময় আগত দর্শনার্থীদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি এসব খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সেবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হাইকমিশনার।
মেলা উদ্বোধনের পর সম্মানিত অতিথি আকবাল সেতিয়া, উপমহাপরিচালক ও প্রচার বিভাগের প্রধান এবং সচিবালয়ের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট অতিথিরা বাংলাদেশের প্রদর্শনীকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
এবারের আন্তর্জাতিক পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি প্রদর্শনী ও সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ অংশ নিয়েছে। মেলায় রয়েছে ১৫৫টি প্রদর্শনীকেন্দ্র।
আয়োজকদের এ আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটন প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সেবার তথ্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
মেলায় অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নতুন অংশীদারত্বের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।