চাঁদাবাজি-দখলবাজি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন; পাশে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ নেতারা উপস্থিত

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও দখলবাজি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ দলের সর্বোচ্চ পরিষদ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন। তাঁর দাবি, বাদ পড়া অধিকাংশ প্রার্থীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে এনসিপির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই রয়েছেন। অন্যায্যভাবে কোনো চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া হলে তাঁদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীতে মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা গণমাধ্যমে বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং সরকার নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণ নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, ওই ভাষণে দেশের জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয়, যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের মতো কর্মসূচির কথা এসেছে। তাঁর দাবি, এসব প্রকল্পের কিছু দেশে ইতিমধ্যে ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

তাঁর মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। সীমান্ত হত্যা, পুশইন এবং ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়েও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা দরকার ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের দিল্লিতে শেখ হাসিনার দলীয় কার্যক্রম ও সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও নাহিদ ইসলাম সমালোচনা করেন।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনটি দফায় দফায় পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে—এমন আশঙ্কা তৈরি হলে এনসিপি জাতীয় নির্বাচনের মতো শুধু দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে নীরব থাকবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক।

সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপি রাষ্ট্রের ‘কসমেটিক সার্জারি’ নয়, মৌলিক সংস্কার চায়। তাঁর মতে, এর আগে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধন হলেও তাতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।

নাহিদ ইসলাম দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, সংবিধান সংশোধনের নামে চলমান উদ্যোগ বন্ধ করে মৌলিক সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *