মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে জেএসডি-রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, চার দাবি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন জেএসডি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা।

রোববার (২৭শে সেপ্টেম্বর) তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুই সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দখলবাজির চূড়ান্ত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে দেশে কোনো সরকার নেই। অথবা সরকার থাকলেও তা সাধারণ মানুষের বদলে দখলবাজদের পক্ষে কাজ করছে।

তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা এবং টিকা নিতে আসতেন। রাতের আঁধারে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ ঘটনাটি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হাসনাত কাইয়ূমের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগের দিন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, পরপর এসব ঘটনা রাজধানীতে দখলবাজ চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার ও প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করছে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। এর সমাধান আদালতের মাধ্যমে হওয়ার কথা। কিন্তু রাতের আঁধারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আইনগত প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, হামলা ঠেকাতে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উপস্থিতি নেই।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে জেএসডি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন চারটি দাবি জানায়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাস্তি নিশ্চিত করা। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত বিরোধ বলপ্রয়োগের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে সংগঠন দুটি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দ্রুত কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

পরিদর্শনে জেএসডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপু ও প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী রোমান উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ রানা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু, রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেন অলি, রাবেয়া মুহিব ও রোকন রকিসহ সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *