বার্কশায়ারের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন ওয়ারেন বাফেট

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পর ওয়ারেন বাফেট

বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ৯৬ বছর বয়সী বাফেটকে চেয়ারম্যান এমেরিটাস করা হয়েছে। তিনি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে থাকবেন। তাঁর ছেলে হাওয়ার্ড বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ই  সেপ্টেম্বর) বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। হাওয়ার্ড বাফেট ১৯৯৩ সাল থেকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে মূলত কোম্পানির সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। কোম্পানির দৈনন্দিন পরিচালনা ও নির্বাহী সিদ্ধান্তের দায়িত্ব থাকবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গ্রিগ অ্যাবেলের হাতে।

বাফেট ১৯৬৫ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। তখন প্রতিষ্ঠানটি নিউ ইংল্যান্ডের একটি সংকটগ্রস্ত টেক্সটাইল কোম্পানি ছিল। পরবর্তী কয়েক দশকে তাঁর নেতৃত্বে এটি রূপ নেয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুমুখী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে।

তবে একটি বিষয় আলাদা করে বলা জরুরি—বাফেট বার্কশায়ারের প্রতিষ্ঠাতা নন। তিনি ১৯৬৫ সালে কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এর ব্যবসায়িক কাঠামো ও বিনিয়োগ কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

দীর্ঘ সময় ধরে বাফেটের নেতৃত্বে বার্কশায়ার বিভিন্ন ব্যবসা অধিগ্রহণের পাশাপাশি বড় বড় কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছে। কোকা-কোলা, অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং গাইকো, বিএনএসএফ রেলওয়ে-এর মতো ব্যবসার মালিকানা বার্কশায়ারের বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে।

বার্কশায়ারের নেতৃত্ব পরিবর্তন অবশ্য শুক্রবারের সিদ্ধান্ত দিয়ে শুরু হয়নি। বাফেট সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর গ্রিগ অ্যাবেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অ্যাবেল কোম্পানির নির্বাহী নেতৃত্বে রয়েছেন।

নিজের বিদায়ী চিঠিতে বাফেট অ্যাবেলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অ্যাবেল তাঁর প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ইতিমধ্যেই নিজে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, হাওয়ার্ড বাফেট ৩৩ বছর ধরে বার্কশায়ারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাফেট তাঁর চিঠিতে দায়িত্বের বিভাজনটি স্পষ্ট করে বলেছেন—গ্রিগ কোম্পানি পরিচালনা করবেন এবং হাওয়ার্ড কোম্পানির সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ দেখবেন।

বিদায়ী চিঠিতে নিজের বয়সের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন বাফেট। সম্প্রতি ৯৬তম জন্মদিন উদযাপনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর এক প্রপৌত্রের বয়স এক বছর হয়েছে এবং এখন সে তাঁর চেয়ে দ্রুত হাঁটে।

চিঠিতে বাফেট লিখেছেন, “ফাদার টাইম অলওয়েজ উইনস। হি হ্যাজ, হাউএভার, বিন জেনারেস উইথ মি.” অর্থাৎ সময়ের কাছে শেষ পর্যন্ত সবাইকে হার মানতে হয়, তবে সময় তাঁর প্রতি উদার ছিল।

বাফেট আরও লিখেছেন, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে বার্কশায়ারে কাজ করার পরও তিনি এটিকে বিশ্বের সেরা চাকরি বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানি এখন অত্যন্ত সক্ষম নেতৃত্বের হাতে এবং তিনি একজন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বার্কশায়ারের সঙ্গে থাকবেন।

বাফেটের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার মধ্য দিয়ে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সম্পন্ন হলো। তবে তিনি পুরোপুরি কোম্পানি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না। চেয়ারম্যান এমেরিটাস হিসেবে তিনি পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন এবং কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের সুযোগ থাকবে।

বার্কশায়ার জানিয়েছে, হাওয়ার্ড বাফেটের চেয়ারম্যান হওয়া কোম্পানির দীর্ঘদিনের সাকসেশন প্ল্যান-এর অংশ। একই সঙ্গে সিইও হিসেবে গ্রিগ অ্যাবেল কোম্পানির পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন।

১৯৬৫ সালে বাফেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর যে প্রতিষ্ঠানটি একটি সংকটগ্রস্ত টেক্সটাইল কোম্পানি থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কংগ্লোমারেটে পরিণত হয়েছে, এখন সেটি তাঁর সরাসরি নেতৃত্বের বাইরে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। বাফেট বোর্ডে থেকে গেলেও বার্কশায়ারের নির্বাহী নেতৃত্ব এখন মূলত গ্রিগ অ্যাবেলের হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *