বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

FBCCI-তে বাংলাদেশ ও চীনের ইউনান প্রতিনিধিদলের বাণিজ্যিক ও আইনি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের ইউনান প্রদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনে সফর করে।

সফরে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন লেই লিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শু সিয়ানফাং ও তান ইয়ুন। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আলমগীর, সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং ট্রাইব্যুনালের সদস্য এএসএম কামাল উদ্দিন ও সৈয়দ আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির জন্য আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত কার্যকর পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে।

সালিশি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগমও বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে শক্তিশালী আইনি কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে লেই লিন বাংলাদেশকে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠেয় ১৯তম চীন–দক্ষিণ এশিয়া ব্যবসা ফোরাম এবং বাণিজ্যিক আইন সহযোগিতা ফোরামে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

১৯তম চীন–দক্ষিণ এশিয়া ব্যবসা ফোরামে বাংলাদেশের জন্য একটি পৃথক দেশের প্রদর্শনী প্যাভিলিয়ন রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। সেখানে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।

২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ১৮তম চীন–দক্ষিণ এশিয়া ব্যবসা ফোরামের পরবর্তী আয়োজনের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্ব বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব মো. আলমগীর বাংলাদেশের পক্ষে সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন।

চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এই ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে একটি আঞ্চলিক ব্যবসায়িক মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি আইনগত সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *