সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চীনের অভিজ্ঞতা নিতে চায় বাংলাদেশ

ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সমুদ্র অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সোমবার (২১শে সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো ও বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশ চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তবে কোনো অভিজ্ঞতা সরাসরি অনুকরণ করা উচিত নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন বিষয়গুলো কার্যকর হতে পারে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য সমুদ্র অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে সমুদ্রের সম্পর্ক গভীর। সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য, নৌপরিবহন, পর্যটন, কৃষি, অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।

তার মতে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হলে সমুদ্রসম্পদের কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেও দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ, অবকাঠামো এবং জরুরি ব্যবস্থাপনায় চীনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ-চীন সংলাপের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় হলে বাস্তব সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নীতি প্রণয়ন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও গভীর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহযোগিতার আরও বাস্তব সুফল তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক পারস্পরিক শিক্ষা ও বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *