চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে ব্যয়ও সরাসরি বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব দ্রুত প্রণয়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।
কারাগার-সংক্রান্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। তবে সাধারণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশেষ করে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষিত কুকুরের দল গঠন এবং মাদক শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুবিধা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার, জেলা পর্যায়ে আধুনিক অপরাধবিজ্ঞান পরীক্ষাগার স্থাপন এবং ডিজিটাল অপরাধবিজ্ঞান অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের ক্ষেত্রেও অভিন্ন নকশা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমির সংকট রয়েছে এমন এলাকায় দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট নিরসনেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা সভায় জানানো হয়।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সুফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পৃথক পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচি বা গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
চলমান প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। সরকারের বর্তমান মেয়াদের অবশিষ্ট চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরিধি পুনর্নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির বিষয়েও ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনভিত্তিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনশৃঙ্খলা খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা সভায় তুলে ধরা হয়।