ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামের এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে।
বৃহস্পতিবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি দৃষ্টি’ ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলোকে একই ডিজিটাল নজরদারি কাঠামোর আওতায় আনা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। তথ্যভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে। নাগরিক সেবার মানও উন্নত করা যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রমের জবাবদিহিতা বাড়ানো হবে।
‘ভূমি দৃষ্টি’ ব্যবস্থায় ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্ধারিত কর্মস্থলের সীমানার মধ্যে থাকলেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাজিরা নিবন্ধনের সুযোগ সক্রিয় হবে।
কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করলে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। অফিসে পৌঁছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিতির নিবন্ধন করতে পারবেন। কর্মদিবস শেষে বের হওয়ার সময়ও নিবন্ধন করা যাবে।
একই ব্যবস্থায় ছুটির আবেদন জমা দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
অফিস চলাকালীন কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গেলে কেন্দ্রীয় তদারকি ব্যবস্থায় লাল সংকেত দেখা যাবে। তবে সরকারি দায়িত্বে বাইরে যেতে হলে এ জন্য আলাদা ‘সাইট ভিজিট’ সুবিধা রয়েছে। সেখানে বাইরে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করা যাবে।
বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় ‘ভূমি দৃষ্টি’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটি শুধু হাজিরা নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে কর্মস্থলে উপস্থিতির হিসাব, কর্মঘণ্টা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের তথ্যও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। ছুটির ব্যবস্থাপনাও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হবে। এতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কী ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থায় সংশোধন ও উন্নয়ন আনা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি কার্যালয়গুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য তৈরি করা। একই সঙ্গে নাগরিক সেবা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মস্থলে আছেন কি না, তা কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির সুযোগ তৈরি করা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গোপনীয়তা নীতিতে বলা হয়েছে, কর্মস্থলে উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সরকারি পরিচয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, কর্মচারী পরিচিতি, পদবি, নির্ধারিত দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাটিতে যুক্ত থাকে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।