ই-এপোস্টিলের গ্রহণযোগ্যতা জোরদারে আন্তমন্ত্রণালয় সভা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ই-এপোস্টিল ব্যবস্থা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা

বাংলাদেশি সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও সুসংহত করতে ই-এপোস্টিল ব্যবস্থায় মূল সনদ যাচাই জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সরকারি ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

সভায় সনদের উৎস যাচাই আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব সরকারি কর্তৃপক্ষ সনদ ইস্যু করে, তাদের ই-এপোস্টিল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশীয় দপ্তরের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো, বিদেশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি সনদের নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা। একই সঙ্গে নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সেবা দেওয়াও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯শে জুলাই ১৯৬১ সালের ‘অ্যাপোস্টিল কনভেনশন’-এ যোগ দেয়। কনভেনশনটি বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ৩০শে মার্চ। এর ফলে বিদেশে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের পাবলিক ডকুমেন্টের প্রচলিত বহুধাপের সত্যায়ন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত ‘কম্পিটেন্ট অথরিটি’। ই-রেজিস্টারের মাধ্যমে ই-এপোস্টিলের সত্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

৩০শে মার্চ ২০২৫ থেকে ই-এপোস্টিল সেবা চালুর পর এখন পর্যন্ত ২৯ লাখের বেশি এপোস্টিল সনদ ইস্যু হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। শিক্ষা সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, চিকিৎসা, বিবাহ, জন্ম ও অভিজ্ঞতা সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথির ক্ষেত্রে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে।

মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকায় নাগরিকদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরাসরি গিয়ে সনদ সত্যায়নের প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। এতে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে।

তবে ই-এপোস্টিলের গ্রহণযোগ্যতা সব দেশে একইভাবে কার্যকর নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোস্টিল কনভেনশনের ১১৪টি দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনলাইন ই-এপোস্টিল গ্রহণযোগ্য। এসব দেশের জন্য ম্যানুয়াল কনস্যুলার সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে ১২টি দেশ এখনো বাংলাদেশের অনলাইন সত্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়নি। এসব দেশ এবং কনভেনশনের বাইরে থাকা দেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কনস্যুলার সত্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

এই পার্থক্যের কারণে সনদের উৎস যাচাই এবং বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষকে ই-এপোস্টিল ব্যবস্থায় যুক্ত করার ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের ই-এপোস্টিল ব্যবস্থা স্বীকৃত কাঠামোর অংশ হয়ে উঠেছে। হেগ কনফারেন্স অন প্রাইভেট ইন্টারন্যাশনাল ল (এইচসিসিএইচ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ই-অ্যাপোস্টিল এবং ই-রেজিস্টার—দুই ব্যবস্থাই চালু করেছে।

ফলে বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ শুধু বেশি সংখ্যায় ই-এপোস্টিল ইস্যু করা নয়। সনদের উৎস নির্ভুলভাবে যাচাই, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যব্যবস্থা সমন্বয় এবং বিদেশে এসব সনদের সহজ যাচাই নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনার মূল গুরুত্ব ছিল এই সমন্বিত ব্যবস্থাকেই আরও শক্তিশালী করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *