ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তিন বছরে অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী এ পুরস্কার পেয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষককেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে হবে না; তাদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিষয় বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষাদান নয়। নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরিও এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে নয়, জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব তৈরির আহ্বান জানান। বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের অর্থে পরিচালিত হওয়ায় একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ পুরস্কার তাদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কারের সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বেড়েছে। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাদের আরও অধ্যয়ন, গবেষণা ও পরিশ্রম করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করছেন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গবেষকদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করা, নিয়মিতভাবে কারিকুলাম পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ।
দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদারের কথাও জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু ভালো ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
২০২১ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।
২০২২ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।
২০২৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম এবং মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। শিক্ষকদের ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।